প্রতিটি মৃদু কম্পন আমাদের জন্য সতর্কবার্তা
- আপলোড সময় : ২১-০২-২০২৬ ০২:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২১-০২-২০২৬ ০২:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন
সিলেট অঞ্চলে আবারও মৃদু ভূক¤পন অনুভূত হয়েছে। সর্বশেষ কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ছাতক উপজেলা, মাত্রা ৪.১। এর আগে গোয়াইনঘাট উপজেলা কেন্দ্র করে ৪.০ মাত্রার আরেকটি ভূক¤পন অনুভূত হয়। তাৎক্ষণিক বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর না থাকলেও ঘটনাগুলো আমাদের একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়- বাংলাদেশ, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চল, ভূমিকম্পঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, প্রস্তুতিই এখানে একমাত্র ভরসা।
ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থানগত কারণে সিলেট অঞ্চল ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের নিকটে। তাই মাঝেমধ্যে মৃদু কম্পন নতুন নয়। কিন্তু সমস্যার জায়গা অন্যত্র- আমাদের নগরায়ণ, নির্মাণমান ও প্রস্তুতির ঘাটতি। ৪ থেকে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত মৃদু হিসেবে বিবেচিত হলেও অনিয়ন্ত্রিত ও নি¤œমানের ভবন নির্মাণ থাকলে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।
প্রথমত, নির্মাণকোড বাস্তবায়ন এখন আর কাগুজে নির্দেশনায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প-সহনশীল নকশা বাধ্যতামূলক করা এবং তা কার্যকরভাবে তদারকি করতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর প্রকৌশল শাখাকে শক্তিশালী করা জরুরি। লাইসেন্সবিহীন নকশা ও নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ঝুঁকি মানচিত্র ও জনসচেতনতা। স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, বাজার ও বহুতল ভবনে নিয়মিত মহড়া (ড্রিল) চালু করা প্রয়োজন। ভূক¤পন হলে কীভাবে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে, কীভাবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে - এসব বিষয়ে নাগরিকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা যেতে পারে।
তৃতীয়ত, পর্যবেক্ষণ ও তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ। দেশের বিভিন্ন স্থানে সিসমোগ্রাফ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, তথ্য দ্রুত যাচাই ও জনসম্মুখে প্রকাশ - এসবের মাধ্যমে গুজব ও আতঙ্ক কমানো সম্ভব। সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক তথ্য সরবরাহের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
চতুর্থত, সমন্বিত জরুরি প্রতিক্রিয়া কাঠামো। ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত কমান্ড সিস্টেম গড়ে তোলা দরকার, যাতে বড় কোনো দুর্যোগে দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যায়। হাসপাতালগুলোতে জরুরি সাড়া-দানের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
ভূমিক¤প ঠেকানো মানুষের সাধ্যের বাইরে; কিন্তু ক্ষতি কমানো সম্পূর্ণই আমাদের হাতে। প্রতিটি মৃদু কম্পন আমাদের জন্য সতর্কবার্তা - অবহেলার নয়, প্রস্তুতির। আজ যে কম্পন ক্ষতি করেনি, আগামীকাল সেটিই বড় আকারে ফিরে আসবে না - এ নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। তাই উন্নয়নের সঙ্গে নিরাপত্তাকে সমান্তরালে এগিয়ে নিতে হবে। দায়িত্বশীল নগরায়ণ, কঠোর নির্মাণমান, সচেতন নাগরিক - এই তিনের সমন্বয়েই আমরা ঝুঁকি কমাতে পারি।
প্রকৃত অর্থে এখনই সময়, কথার চেয়ে কাজে প্রমাণের। ভূকম্পনের এই পুনরাবৃত্তি যেন আমাদের সামষ্টিক উদাসীনতাকে নাড়া দেয় - এটাই প্রত্যাশা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়